Food Guides
লেবুর আছে অনেক উপকারিতা
লেবু হলো আমাদের সবার পরিচিত সুস্বাদু, রসালো ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি সুপারফুড।
এই ছোট ও সবুজ সাইট্রাস ফলটি সহজে পাওয়া যায়, খুব উপকারী এবং এতে ক্যালোরি কম থাকে।
লেবুর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জিঙ্ক।
লেবু খেতে টক তাই এটা অন্য খাবারের সাথে মিলিয়ে খাওয়া হয়।বিশেষ করে বাঙালির ভাতের থালায় এক টুকরো লেবু থাকলে তো কথাই নেই।
আবার লেবুর শরবত, লেবুর চা-ও বেশ জনপ্রিয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার ভোর যদি হয় খালি পেটে পানি খেয়ে, তাহলে খুব ভালো কিন্তু এর সঙ্গে যদি যোগ করেন কুসুম গরম লেবু–পানি, তবে তো উড়ন্ত সূচনা।
খালি পেটে গরম পানি পান হজমশক্তি বাড়ায়, জোগায় শক্তি। তার সঙ্গে নানা স্বাস্থ্যসুবিধা আছে।
এর সঙ্গে মাত্র এক চা–চামচ লেবুর রস যোগ করলে এই পানীয় আপনাকে রাখবে দিনভর সতেজ।
লেবু শরীরের টক্সিক পদার্থ বের করে দেয়,ফলে যেকোনো অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
শরীরের অনেক জীবাণুকে ধ্বংস করতে পারে লেবুর পানি। তাছাড়া শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে লেবুর রস মেশানো পানি বেশ কার্যকর।
প্রতিদিন লেবু বা লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
লেবুতে আছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
সর্দি ও ফ্লুর লক্ষণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। তাই এ ধরনের সমস্যায় সব সময় গরম পানি ও লেবু খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এক গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এই পানীয় সর্দি ও কাশি দূর করতে সাহায্য করবে।
হজমে সাহায্য করে
লেবুতে আছে দ্রবণীয় ফাইবার যা আমাদের অন্ত্রের জন্য বেশ সহায়ক। এটি অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হজমের উন্নতি করতে সাহায্য করে।
লেবুতে থাকা প্রধান ফাইবার পেকটিন, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে সহায়তা করে এবং চিনি ও স্টার্চের হজমের হারকে সহজ করে।
যে কারণে লেবু খেলে হজমশক্তি ভালো হয়।এতে হজমের নানা সমস্যার উপকার হয়।
কুসুম গরম পানি আমাদের হজমপ্রক্রিয়া উদ্দীপিত করে,সাথে লেবুর রস যোগ করলে পিত্তরসের উৎপাদন বাড়ায়।
ফলে কুসুম গরম লেবু–পানি শরীরের খাদ্য ভাঙতে সাহায্য করে হজমের সহায়তা করে।
ওজন কমায়
লেবুতে আছে ফাইবার যা দীর্ঘ সময়ের জন্য পূর্ণ বোধ করতে সহায়তা করে।
যার ফলে বার বার খাবার খাওয়ার সম্ভাবনা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, লেবুপানি পান করলে ওজম দ্রত কমে।
কারণ লেবুতে রয়েছে পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং পেকটিন নামের একধরনের আঁশজাতীয় উপাদান থাকে, যা আমাদের ক্ষুধা কমায়।
ইঁদুরের ওপর করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই উপাদানটি স্থূলতা প্রতিরোধ করে ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
যখন এর সঙ্গে গরম পানি যুক্ত হয়, তখন তা শরীরকে আরও পরিপূর্ণ থাকার অনুভূতি দেয়।
কুসুম গরম লেবু–পানি ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে।ওজন বেড়ে গেলে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।
এক গ্লাস পানিতে মধুর ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে তা শরীরের জন্য বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে।
এটি আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খাবার থেকে বিরত রাখবে, ফলে ওজন বৃদ্ধির ভয় থাকবে না।
জল ধারণ কমায়
লেবু প্রাকৃতিকভাব মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এটি আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয় ।
পিএইচ মাত্রার ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর যার ফলে শরীর ফোলার সমস্যা কমে যায়।
নিয়মিত ও পরিমিত লেবু আপনাকে সুস্থ রাখতে কাজ করবে।
ত্বক ভালো রাখে
লেবুতে আছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্যে যা ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
চেহারায় বয়সজনিত ছাপ কমাতে সাহায্য করে লবুর রস।
লেবুতে আছে ভিটামিন সি যা ত্বকের বলিরেখা, বার্ধক্যজনিত শুষ্ক ত্বক এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে গেলে দেখা দেয় বলিরেখার প্রবণতা । সকালে এক গ্লাস লেবুপানি এই সমস্যা কমিয়ে দেয়।
লেবুর রস বের করে নেয়ার পর খোসাও ঘষতে পারেন ত্বকে।
এতে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি মৃত কোষ নষ্ট হয় ও ত্বক ঝকঝকে হয়ে ওঠে।
তাছাড়া লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে শরীরের কোষ ধ্বংসকারী ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে, ত্বকের দাগ দূর করে এবং ত্বককে করে স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে পাচনতন্ত্র সতেজ থাকবে।
এ ছাড়া লেবুপানি পান করলে অনায়াসে খুব সহজে খাবার হজম হবে।এটি দীর্ঘদিনের বদহজমের সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে।
লেবুতে বিদ্যমান সাইট্রিক অ্যাসিড কোলন, পিত্তথলি ও লিভার থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায়তা করে।
তাছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে।
কিডনির পাথর প্রতিরোধ
ইদানিং অনেকেই কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু পাথর প্রতিরোধ ও নির্গত করার জন্য লেবুপানি কাজ করে।
এর পাশাপাশি এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড যা পাথর বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে কার্যকরী।
লেবুতে আছে খুব দরকারি সাইট্রিক অ্যাসিড যা কিডনিতে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ নামক পাথর গঠনে বাধা দেয়।
সাইট্রেট, সাইট্রিক অ্যাসিডের একটি উপাদান, যা প্রস্রাবের অম্লত্ব হ্রাস করে। এমনকি এটি ছোট ছোট পাথর ভেঙ্গে ফেলতেও সহায়তা করতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যৌগগুলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে
এবং ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
লেবুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মতো উপকারী উপাদান।
এতে ‘জিআই’ অর্থাৎ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণও অনেক বেশী ।ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতেও লেবু খুব উপকারী।
প্রতিদিন লেবু পানি পান করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
ভিটামিন সি সংবহনতন্ত্রের রোগ, রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
আর লেবু ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উৎস। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মাঝারি লেবুর রসে প্রায় ২৬.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর পরিমাণ দৈনিক ৬৫ থেকে ৯০ মিলিগ্রাম।
আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লেবুতে থাকা পটাশিয়াম ও সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডায়েটে রাখা হয় লেবু।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত লেবু খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
মুখের দুর্গন্ধ রোধে
মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে লেবুপানি উপকারী। সকালে এক গ্লাস লেবুপানি পান করে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ রোধ করতে পারে।
লেবু লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে ফলে মুখগহ্বর শুষ্ক হয় না ও ব্যাক্টেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধর আশঙ্কা কমে যায়।
তাই রসুন, পেঁয়াজ বা মাছের মতো তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে লেবুপানি সহায়ক হিসাবে কাজ করে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
লেবু পানি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
জার্নাল অফ চিরোপ্রাকটিক মেডিসিন দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণা অনুসারে, ভিটামিন সি এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
এছাড়া লেবুতে ফ্ল্যাভোনয়েডও রয়েছে, যা ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল-এর মাত্রা কমায়।
গবেষণা অনুসারে, এক মাস ধরে প্রতিদিন ২৪ গ্রাম সাইট্রাস ফল যেমন লেবুর নির্যাস গ্রহণ করলে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।
প্রতিদিন কতটা লেবু খাওয়া নিরাপদ?
দিনে দুই থেকে তিনটি লেবু (প্রায় চার থেকে ছয় টেবিল চামচ) খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।সাইট্রাস ফল যেমন লেবু পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত।
প্যান আফ্রিকান মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত লেবু খেলে এর উচ্চ মাত্রার সাইট্রিক অ্যাসিডের কারণে এনামেল ক্ষয় হতে পারে।
তাছাড়া লেবুতে থাকে টাইরামিন যা মাইগ্রেনের রোগীর ক্ষেত্রে মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
Food Guides
Healthy Homemade Juice Recipes for Every Occasion
Food Guides
গুরুত্বপূর্ণ সুপারফুড যা আপনার শরীরকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে
দিনে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারফুড যা আপনার শরীরকে স্বাস্থ্যবান রাখে
ভূমিকা
আজকের দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে সঠিক খাদ্য গ্রহণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তবে কিছু বিশেষ খাবার, যা “সুপারফুড” হিসেবে পরিচিত, তা নিয়মিত খেলে শরীরকে শক্তিশালী, রোগপ্রতিরোধী এবং স্বাস্থ্যবান রাখা সম্ভব। এখানে ৭টি সুপারফুড নিয়ে আলোচনা করা হলো যা আমাদের হাতের কাছেই আছে এবং খুব সহজে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা যায়।
১. ব্লুবেরি (Blueberry)
- পুষ্টিগুণ: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন C, ভিটামিন K
- সুস্থতার জন্য: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, হৃদয় সুস্থ রাখে এবং কোষগুলোকে ফ্রি র্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে।ফলে স্মরনশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- খাওয়ার পরামর্শ: সকালে দই বা ওটমিলের সঙ্গে খেতে পারেন।
২. পালং শাক (Spinach)
- পুষ্টিগুণ: লৌহ, ভিটামিন A, ভিটামিন C, ফাইবার।
- সুস্থতার জন্য: রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, হাড় মজবুত করা এবং হজম ভালো রাখা।
- খাওয়ার পরামর্শ: সালাদ, স্মুদি বা হালকা স্যুপে ব্যবহার করুন।
৩. বাদাম (Almonds / Walnuts)
- পুষ্টিগুণ: প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন E।
- সুস্থতার জন্য: হৃদয় সুস্থ রাখা, ত্বক ও চুলের যত্ন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
- খাওয়ার পরামর্শ: দুপুরের স্ন্যাকস বা দুধের সঙ্গে খাওয়া যায়।
৪. ওটস (Oats)
- পুষ্টিগুণ: ফাইবার, ভিটামিন B, প্রোটিন।
- সুস্থতার জন্য: হজম ভালো রাখে, দীর্ঘ সময়ের জন্য এনার্জি দেয় এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
- খাওয়ার পরামর্শ: সকালের নাশ্তায় ওটমিল বা স্মুদি হিসেবে। বিভিন্ন সবজি ও ডাল দিয়ে খিচুড়ি করে খাওয়া যায়।
৫. গাজর (Carrot)
- পুষ্টিগুণ: ভিটামিন A, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
- সুস্থতার জন্য: চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ত্বক উজ্জ্বল রাখে।
- খাওয়ার পরামর্শ: স্যালাড, জুস বা হালকা সূপে ব্যবহার করুন।
৬. গ্রিক দই (Greek Yogurt)
- পুষ্টিগুণ: প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম।
- সুস্থতার জন্য: হজম শক্তিশালী করে, হাড় মজবুত রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
- খাওয়ার পরামর্শ: সকালের নাশ্তা বা স্ন্যাকসের সময়। শশার স্যালাদেও ব্যবহার করা যায়।
৭. অ্যালিভ অয়েল (Olive Oil)
- পুষ্টিগুণ: স্বাস্থ্যকর মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
- সুস্থতার জন্য: হৃদয় স্বাস্থ্য রক্ষা, প্রদাহ কমানো এবং ত্বক উজ্জ্বল রাখে।
- খাওয়ার পরামর্শ: সালাডে ড্রেসিং হিসেবে বা রান্নায় কম তাপে ব্যবহার করুন।
উপসংহার
এই ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারফুড নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখলে আপনি শরীরকে রোগমুক্ত, শক্তিশালী এবং সুস্থ রাখতে পারবেন। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের সাথে।
সু-স্বাস্থ্য এর আরও তথ্য পেতে এখানে চাপুন ।
আসা করি দেখা হবে আবারও সু স্বাস্থ্য নিয়ে ।
আপনার ও আপনার পরিবারের সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখুন।
Food Guides
তালের পিঠা এর কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন রেসিপি
তালের পিঠা আমাদের দেশের এক জনপ্রিয় সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবার। তাল পাকার মৌসুমে ঘরে ঘরে বিভিন্নভাবে এই পিঠা বানানো হয়। কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন তালের পিঠার রেসিপি দেয়া হয়েছে–
🍩 ১. ভাজা তালের পিঠা(Traditional Fry)
উপকরণ:
- তাল – ২টা (পাকা, মিহি করে ছেঁকে নেওয়া)
- চালের গুঁড়া – ২ কাপ
- গুড় – ১ কাপ (চিনি দিয়েও করা যায়)
- নারকেল কুচি – ১ কাপ
- লবণ – সামান্য
- তেল – ভাজার জন্য
প্রণালী:
১. তাল ছেঁকে মিহি করে নিন।
২. চালের গুঁড়া, গুড়/চিনি, নারকেল কুচি, লবণ মিশিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন।
৩. কড়াইতে তেল গরম করে এক চামচ করে ঢেলে ভেজে নিন।
৪. দুই পাশ লালচে হলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
🥥 ২. নারকেল পুর ভরা তালের পিঠা
উপকরণ:
- চালের গুঁড়া – ২ কাপ
- তাল রস – ১ কাপ
- নারকেল কুরানো – ১ কাপ
- গুড় – ১ কাপ
- এলাচ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
- তেল/ঘি – পরিমাণমতো
প্রণালী:
১. তাল রস ও চালের গুঁড়া দিয়ে মণ্ড তৈরি করুন।
২. আলাদা করে নারকেল, গুড় ও এলাচ গুঁড়ো দিয়ে পুর তৈরি করুন।
৩. মণ্ড থেকে ছোট লেচি কেটে পুর ভরে গোল/ওভাল আকার দিন।
৪. তেল বা ঘিতে ভেজে নিন।
🥞 ৩. পাতলা তালের পিঠা (চিতই স্টাইলে)
উপকরণ:
• চালের গুঁড়া – ২ কাপ
• তাল রস – ১ কাপ
• দুধ – ১ কাপ
• চিনি/গুড় – ½ কাপ
• লবণ – সামান্য
প্রণালী:
১. চালের গুঁড়া, দুধ, তাল রস ও চিনি দিয়ে তরল ব্যাটার তৈরি করুন।
২. নন-স্টিক তাওয়া গরম করে হালকা তেল মেখে ব্যাটার ঢেলে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন।
৩. দুই পাশ সোনালি করে ভেজে নিন।
৪. গরম গরম পরিবেশন করুন।
🍯 ৪. ভাপে তালের পিঠা
উপকরণ:
• চালের গুঁড়া – ২ কাপ
• তাল রস – ১ কাপ
• গুড় – ১ কাপ
• নারকেল কুরানো – ১ কাপ
• কলাপাতা (ইচ্ছেমতো)
প্রণালী:
১. চালের গুঁড়া, তাল রস, গুড়, নারকেল মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করুন। ২. ছোট ছোট আকারে বানিয়ে কলাপাতায় মুড়ে নিন। ৩. স্টিমারে/ভাপা পাত্রে ১৫–২০ মিনিট ভাপে দিন। ৪. সুগন্ধি ভাপে তালের পিঠা প্রস্তুত।
🍮 ৫. দুধে তালের পিঠা
উপকরণ:
• চালের গুঁড়া – ২ কাপ
• তাল রস – ১ কাপ
• গুড় – ১ কাপ
• তরল দুধ – ৩ কাপ
• নারকেল কুরানো – ১ কাপ
• এলাচ – ২–৩টি
প্রণালী:
১. চালের গুঁড়া, তাল রস ও গুড় দিয়ে মণ্ড তৈরি করুন। ২. ছোট ছোট বল আকারে পিঠা বানান। ৩. দুধ ফুটে উঠলে তাতে পিঠাগুলো ছাড়ুন। ৪. নারকেল ও এলাচ যোগ করে দুধ ঘন না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিন। ৫. মিষ্টি দুধে ভেসে থাকা নরম নরম তালের পিঠা পরিবেশন করুন।
🍪 ৬. বেকড তালের পিঠা (আধুনিক)
উপকরণ:
• ময়দা – ১ কাপ
• তাল রস – ½ কাপ
• ডিম – ২টি
• চিনি/গুড় – ½ কাপ
• বেকিং পাউডার – ১ চা চামচ
• ঘি – ২ টেবিল চামচ
• এলাচ গুঁড়া – ½ চা চামচ
প্রণালী:
১. ডিম, চিনি/গুড় ও ঘি ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ২. এতে তাল রস, ময়দা, বেকিং পাউডার, এলাচ মিশিয়ে নরম ব্যাটার বানান। ৩. ওভেন ১৮০°সে তাপে প্রি-হিট করে ব্যাটার ঢেলে দিন। ৪. ৩০–৩৫ মিনিট বেক করুন। ৫. কেকের মতো নরম বেকড তালের পিঠা পাবেন।
🍧 ৭. তালের ক্ষীর পিঠা
উপকরণ:
• চালের গুঁড়া – ১ কাপ
• তাল রস – ১ কাপ
• গুড় – ১ কাপ
• দুধ – ৪ কাপ
• ঘন নারকেল দুধ – ১ কাপ
• কিসমিস, কাজু – ইচ্ছেমতো
প্রণালী:
১. চালের গুঁড়া ও তাল রস মিশিয়ে ছোট ছোট লুচির মতো গোল পিঠা বানান। ২. দুধ ফুটে উঠলে গুড় ও নারকেল দুধ যোগ করুন। ৩. এতে পিঠাগুলো ছাড়ুন এবং কাজু-কিসমিস দিন। ৪. ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন। ৫. ঠান্ডা বা গরম – দুইভাবেই খেতে দারুণ।
🥟 ৮. তাল-সুজি পিঠা
উপকরণ:
- সুজি – ১ কা
- তাল রস – ১ কাপ
- গুড় – ½ কাপ
- নারকেল কুরানো – ½ কাপ
- দুধ – ১ কাপ
- ঘি – ২ টেবিল চামচ
প্রণালী:
১. কড়াইতে ঘি গরম করে সুজি ভেজে নিন।
২. দুধ ও তাল রস দিয়ে নরম খিচুড়ির মতো মিশ্রণ তৈরি করুন।
৩. তাতে গুড় ও নারকেল মেশান। ৪. মিশ্রণ ঠান্ডা হলে ছোট ছোট বল আকারে গড়ুন। ৫. ইচ্ছেমতো ভেজে/ভাপে পরিবেশন করুন।
🍯 ৯. তালের মালপোয়া
উপকরণ:
- তাল রস – ১ কাপ
- ময়দা – ১ কাপ
- সুজি – ½ কাপ
- গুড়/চিনি – ½ কাপ
- দুধ – ½ কাপ
- বেকিং পাউডার – ½ চা চামচ
- ঘি/তেল – ভাজার জন্য
প্রণালী:
১. তাল রস, ময়দা, সুজি, দুধ, গুড়/চিনি ও বেকিং পাউডার মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন।
২. ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন।
৩. কড়াইতে তেল/ঘি গরম করে ছোট ছোট গোল আকারে ঢেলে দিন।
৪. দুই পাশ সোনালি ভেজে গরম গরম পরিবেশন করুন।
🥞 ১০. তালের পাটিসাপটা
উপকরণ:
- চালের গুঁড়া – ১ কাপ
- ময়দা – ½ কাপ
- তাল রস – ১ কাপ
- দুধ – ১ কাপ
- নারকেল কুরানো – ১ কাপ
- গুড় – ½ কাপ
- ঘি – ১ টেবিল চামচ
প্রণালী:
১. চালের গুঁড়া, ময়দা, দুধ ও তাল রস দিয়ে ব্যাটার তৈরি করুন।
২. আলাদা করে নারকেল, গুড় ও ঘি দিয়ে পুর বানান।
৩. নন-স্টিক প্যান গরম করে পাতলা করে ব্যাটার ঢালুন।
৪. একপাশে পুর দিয়ে রোল করুন।
৫. সুগন্ধি তালের পাটিসাপটা পরিবেশন করুন।
🍨 ১১. তালের হালুয়া পিঠা
উপকরণ:
- তাল রস – ১ কাপ
- সুজি – ১ কাপ
- গুড় – ½ কাপ
- ঘি – ২ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়া – সামান্য
- কাজু, কিসমিস – ইচ্ছেমতো
প্রণালী:
১. কড়াইতে ঘি দিয়ে সুজি হালকা ভেজে নিন।
২. তাল রস ও গুড় যোগ করে নাড়তে থাকুন।
৩. কাজু-কিসমিস ও এলাচ গুঁড়া দিন।
৪. ঘন হলে নামিয়ে ছাঁচে ঢেলে কাটুন।
৫. হালুয়ার মতো তালের পিঠা পরিবেশন করুন।
🥥 ১২. তালের নারকেল ভাপা পিঠা
উপকরণ:
- চালের গুঁড়া – ২ কাপ
- তাল রস – ১ কাপ
- নারকেল কুরানো – ১ কাপ
- গুড় – ১ কাপ
- কলাপাতা – ইচ্ছেমতো
প্রণালী:
১. চালের গুঁড়া ও তাল রস মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করুন।
২. নারকেল ও গুড় একসাথে পুর তৈরি করুন।
৩. কলাপাতায় মণ্ড বিছিয়ে পুর দিয়ে মুড়ে দিন।
৪. ভাপে ১৫–২০ মিনিট রান্না করুন।
৫. সুগন্ধি ভাপা তালের পিঠা তৈরি।
সু-স্বাস্থ্য এর আরও তথ্য পেতে এখানে চাপুন ।
আসা করি দেখা হবে আবারও সু স্বাস্থ্য নিয়ে ।
আপনার ও আপনার পরিবারের সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখুন।
-
beauty tips11 months agoচুল পড়া রোধ করার কিছু ঘরোয়া উপায়
-
Fitness11 months agoওজন কমানোর কিছু কার্যকরী উপায়
-
beauty tips11 months agoত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কয়েকটি ঘরোয়া ফেসপ্যাক
-
Food Guides5 months agoDaily Balanced Diet for Good Health : Your Ultimate Guide
-
Fitness5 months agoHow to Stay Hydrated: The Ultimate Guide to Drinking More Water
-
beauty tips11 months agoঅ্যালোভেরার আছে নানা গুণ
-
Nutrition Tips9 months agoমিষ্টি আলুর উপকারিতা ও অপকারিতা
-
Food Guides11 months agoরোজায় সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন



